1. mdmobinali112@gmail.com : admin2020 :
  2. mdalimobin112@gmail.com : Ali Mobin : Ali Mobin
রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ০৮:১৬ পূর্বাহ্ন

শিশু মারিয়া জানে না তার পিতৃপরিচয়

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০
সাইফুল আলম, ত্রিশাল প্রতিনিধিঃ
ময়মনসিংহের ত্রিশালে এক  পাগলী মা তার ৯ বছরের ফুটফুটে কণ্যা শিশুকে নিয়ে ভাসমান জীবনযাপন করছে। মারিয়া নামের এই শিশুর  কথাবার্তা ও চঞ্চলতা দেখে অনেকেই তাকে স্নেহের বন্ধনে আবদ্ধ করেছেন। দেখা হলেই, এই মারিয়া বলে ডাকছে এবং তার খোঁজ-খবর নিচ্ছে। খাবার জন্য টাকা-পয়সা বা খাবার কিনে দিচ্ছে।
ছোট্ট শিশু মারিয়াকে তার বাবার কথা জিজ্ঞাসা করলে বলতে পারেনা তার বাবার নাম।  পিতৃপরিচয়হীন মারিয়ার মা ‘জনন’ আবারও সন্তানসম্ভবা।
অনাগত সন্তানটিও হয়তো কখনো জানবেনা তার বাবা ছিল কে। মারিয়ার মা জননকে তার স্বামীর কথা জিজ্ঞাসা করলে সে সঠিকভাবে কিছু বলতে পারেনা।
তাহলে প্রশ্ন হলো, কে এই জনন? তার ফুটফুটে কণ্যা  সন্তানের ভবিষ্যতই বা কতটা নিরাপদ?
মারিয়ার মা জননকে তার বাড়ির কথা জিজ্ঞাসা করলে সে লালপুরের কথা বলে। লালপুর কালি মন্দিরের পাশে আগে তারা থাকতো বলে জানায়।
সে আগে নার্স ছিল বলেও স্থানীয়দের সে জানায়। তাকে কোন সমস্যায় প্রেসক্রিপশন লিখে দিতে বললে, সুন্দর করে প্রেসক্রিপশন  লিখে দেয়। তার হাতের লেখাও চমৎকার।
এ থেকে বুঝা যায় জনন শিক্ষিত। কিন্তু কেন তার জীবনের এই করুন পরিনতি, কেন সে আজ পাগল? জনমনে প্রশ্ন।
ত্রিশালের মঠবাড়ী ইউনিয়নের অলহরী ঘাটপাড়ে বেশ কিছুদিন ধরে সে ভাসমান জীবনযাপন করছে। আজ এক দোকানের সামনে তো কাল আরেক দোকানের সামনে রাত্রি যাপন করছে। স্থানীয় বাজারের মজিবর দোকানদার বলেন, “পাগলীর মেয়েটা খুবই বুদ্ধিমতি। সে যদি ভালো পরিবেশ পেতো তাহলে সমাজের অনেক ভালো পরিবারের সন্তানের মতোই গড়ে উঠতে পারতো। কিন্তু কি নির্মম ভাগ্যের পরিহাস, তার সেই পরিবেশ নেই। হয়তো একসময় শোনা যাবে ছোট্ট শিশু ‘মারিয়া’ মা হয়েছে কিন্তু বাবার পরিচয় খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
পৃথিবীর মানুষরূপী নরপিশাচ গুলোর লালসার ধাবা থেকে এই পাগলী মা তার সন্তানকে আর কতদিন নিরাপদ রাখতে পারবে সেটাই ভাবার বিষয়।
যদিও পাগলী মা তার শিশু সন্তান মারিয়াকে একটু চোখের আড়াল হতে দিতে চায় না। সে যে সন্তান ধারণ করে আছে তার জন্মও হয়তো এই ভাসমান অবস্থাতেই হবে কিন্তু পাশে পাবেনা কাউকে!”
এ বিষয়ে স্থানীয় মেম্বার নজরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি আগে অবগত ছিলাম না, এখন খোঁজ নেবো।
মঠবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল কদ্দুছ মন্ডল বলেন, ঐ মহিলা সম্পর্কে আমি জানি। সে আগে পোড়াবাড়ী বাজেরও বেশ কিছুদিন ছিল। তার বাড়ী মোক্ষপুর ইউনিয়নের লালপুরে জানার পর আমি ঐ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে বিষয়টা ফোনে জানায়।
তবে মোক্ষপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আবুল কালামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এই মহিলার বিষয়ে আমি অবগত নই। আমি বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছি।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..