1. mdmobinali112@gmail.com : admin2020 :
  2. mdalimobin112@gmail.com : Ali Mobin : Ali Mobin
বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ০৪:২০ পূর্বাহ্ন

লালমনিরহাটে তিলে তিলে গড়ে উঠছে বিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রী স্মৃতি জাদুঘর |জাগোকণ্ঠ

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২০

আসাদুল ইসলাম সবুজ, লালমনিরহাট :

লালমনিরহাটে তিলে তিলে গড়ে উঠছে বিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধান
ও প্রধানমন্ত্রী স্মৃতি জাদুঘর। বিশ্বের সকল রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রীদের চিরস্বরণীয় করে
রাখতে দি পিকটোরিয়াল মিউজিয়াম প্রেসিডেন্ট/ প্রাইমমিনিষ্টার অফ ওয়ার্ল্ড ( ড, চ, গ –
২০০১) নামক একটি প্রতিষ্টান সংগ্রহশালা যাত্রা বহুদিন আগে থেকে শুরু করেছে। বিভিন্ন
দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রী এই স্মৃতি জাদুঘরে ইতিমধ্যে রাষ্ট্রীয় পোষাক পরিহিত ছবি
ও সংক্ষিপ্ত জীবন বৃত্তান্ত প্রদান করেছেন। বিশ্বের সকল রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রীগণ মহামানব,
মহাঞ্জানী, মহাভাগ্যবান ব্যক্তি। এক একটি জাতির জন্য ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে একজনকে মহান
সৃষ্টিকর্তা জনগনের প্রতিনিধি হিসেবে পাঠিয়েছেন। একজন রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রী
একটি রাষ্টের অবিভাবক। মহান এই অবিভাবকদের জন্য সর্বউচ্চ কোন সেমিনারে তাদের জীবনী
আলোকপাত করা হয়না। তাদের চির অমর করে রাখার জন্য বিশ্বের কোথাও কোন স্মৃতি জাদুঘর
তৈরী হয়নি। অথচ কবি, সাহিত্যিক, শিক্ষানুরাগী, চিকিৎসক, গবেষক, রাজনীতিবীদ, সমাজ
সংস্কারক সেবকসহ মানব সমাজে যারা অবদান রেখেছেন তাদের বিভিন্ন ভাবে চিরঅমর করে ধরে
রাখা হয়। কিন্তু তাদের তুলনায় একজন রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রী অনেক বেশি সন্মানি ব্যক্তি।
এসব চিন্তা ভাবনা শেষে মহাভাগ্যবান রাষ্ট্রপ্রধানদের চির অমর স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্টা
করেছেন বলে এসব কথা বলেন ব্যতিক্রম নেশার মাহমুদ ফিরোজ।
মাহমুদ ফিরোজ ( ৪৭) ফিরোজ ডাক নামে তিনি বেশি পরিচিত। পেশায় তিনি রুপালী
ব্যাংকের অফিস সহকারী। বর্তমান তিনি লালমনিরহাটের আদিতমারী শাখায় কর্মরত আছেন। দি
পিকটোরিয়াল মিউজিয়াম প্রেসিডেন্ট প্রাইমমিনিষ্টার অফ ওয়ার্ল্ড এর পরিচালক মাহমুদ
ফিরোজ। এই ঐতিহাসিক নিদর্শন সংগ্রহের বাড়ী লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার
সাপ্টিবাড়ী ইউনিয়নের খাতাপাড়া দরবেশ বাড়ী। সেই বসত বাড়ীর সাথে আলাদা একটি ঘরে
বিশ্বের সকল রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রীদের ছবি ও সংক্ষিপ্ত জীবনী প্রদর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখা
হয়েছে। এসব কাজ তিনি যুবক বয়সে শুরু করেন। তার সংগ্রহ শালা স্মৃতি জাদুঘরে
ইতিমধ্যে বেশ কিছু দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রীগনের ছবি সংগ্রহ করা হয়েছে। তার
ছবি সংগ্রহের ধরণ আলাদা। এ সব ছবি বা জীবনী বাজার বা কারও কাছ থেকে নেওয়া নয়,
প্রতিটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া। অর্থনৈতিক সমস্যা থাকার
পরও দিনের পর দিন ধরে চালিয়ে যাচ্ছে ঐতিহাসিক এই সকল নিদর্শন সংগ্রহের কাজ।
মাহমুদ ফিরোজের সাথে কথা বলে জানা যায়, রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ
পৌরসভাধীন ২নং ওয়ার্ডে তার জন্ম ১৯৭১ সালে। তার বাবা আঃ সালাম সরকার। ৪ ভাই ৩ বোন এর
মধ্যে মাহমুদ ফিরোজ ৪র্থ। ৯ সদস্যর সংসারে কৃষক বাবার সাংসারিক খরচ জোগান দেওয়া
কষ্টকর। তাই তিনি নি¤œ মাধ্যমিক পেরিয়ে যেতে পারেনি। ১৯৮৯ সালে রুপালী ব্যাংক
লিমিটেড হারাগাছ শাখায় অস্থায়ী ভিত্তিতে চাকুরীতে যোগদান করেন। চাকুরীতে
যোগদানের পর তিনি বিভিন্ন পত্রিকা পড়তেন আর ব্যতিক্রম কোন কিছু সংগ্রহ শালার কথা
ভাবতেন। শেষে সিদ্ধান্ত নেন বিশ্বে রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রীরা এক একটি রাষ্ট্রের অভিভাবক।
কিন্তু এই মহান অভিভাবকদের ছবি এবং জীবনী সংগ্রহশালা স্মৃতি জাদুঘর বিশ্বের কোথাও
নেই। তাই তিনি অবসর সময়ে সংগ্রহশালার কাজটি কি ভাবে শুরু করা যায় এনিয়ে চিন্তা
ভাবনা করতেন। অস্থায়ী চাকুরী অর্থনৈতিক সমস্যার মূখে ১৯৯৮ সালে নাসিমা আক্তারের সাথে
মাহমুদ ফিরোজের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তার স্বপ্ন পুরনের পালা শুরু। তার স্ত্রী তার কাজের সঙ্গী
হয়ে যায়। মাহমুদ ফিরোজ জানান ২০০১ সালে রংপুরে থাকতে দি পিকটোরিয়াল মিউজিয়াম

প্রেসিডেন্ট প্রাইমমিনিষ্টার অফ ওয়ার্ল্ড ( ড, চ, গ – ২০০১) নামক একটি প্রতিষ্টান তৈরী
করেন। বিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রীদের চির স্বরনীয় করে রাখতে স্মৃতি জাদুঘরে। রাষ্ট্রীয়
পোশাক পরিহিত ছবি ও সংক্ষিপ্ত জীবন বৃত্তান্ত চেয়ে ৪৫ টি দেশে চিঠি পাঠান। ইতি মধ্যে
১৫টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রীরা তাদের ছবিসহ সংক্ষিপ্ত জীবন বৃত্তান্ত প্রদান
করেছেন। সেই সাথে তার এই উদ্দ্যোগকে প্রশংসা করেন। অর্থনৈতিক সহযোগীতা দেওয়ার
জন্য চিঠি পাঠিয়েছেন বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধানরা। অবশিষ্ট দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রীদের
ছবি জীবনী সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন খুড়িয়ে খুড়িয়ে। বর্তমানে তিনি
প্যারালাইসিস্ধসঢ়; রোগে আক্রান্ত। কিন্তু বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রী আজবধি কোন
সাড়া দেয়নি। ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আশার পর তার রুপালী ব্যাংকের চাকুরী
স্থায়ী হওয়ার পর লালমনিরহাট শাখায় চলে আসেন মাহমুদ ফিরোজ। এমন কি জটিল রোগে আক্রান্ত
হয়ে অসুস্থ থাকায় রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রীদের স্মৃতি জাদুঘরে কাজ কিছুটা বিলম্ব হয়।
এখন তিনি অনেকটাই সুস্থ চাকুরী ও স্থায়ী তাই স্মৃতি জাদুঘরে কাজ চলছে পুরোদমে।
তিনি লালমনিরহাট আদিতমারী উপজেলার সাপ্টিবাড়ী ইউনিয়নের খাতাপাড়া এলাকার স্থায়ী
বাসিন্দা হিসাবে জমি কিনে বসতবাড়ি নির্মাণের কাজও শুরু করেছেন। সেই বসতবাড়ির
নাম রাখা হয় দরবেশ বাড়ী। সেখানে একটি ঘরে বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রীদের ছবি ও
সংক্ষিপ্ত জীবনী প্রদর্শনের জন্য খুব তাড়াতাড়ি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে মাহমুদ ফিরোজ বলেন, দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রীদের ছবি জীবনী সংগ্রহশালা
স্মৃতি জাদুঘর বাংলাদেশে তৈরি হলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বহিঃবিশ্বে উজ্জল হবে। দি
পিকটোরিয়াল মিউজিয়াম প্রেসিডেন্ট/ প্রাইমমিনিষ্টার অফ ওয়ার্ল্ড ( ড,চ, গ -২০০১) নামে
ব্যাংকে একটি সঞ্চয়ী হিসাব খোলা হয়েছে। সেখানে কিছু কিছু করে সঞ্চয় রাখা হয়েছে।
বিভিন্ন দেশে চিঠিপত্র পাঠাতে এ সঞ্চয়ের টাকা খরচ করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও
প্রধানমন্ত্রী ছবি ও জীবনী প্রদান করেনি।
এ জন্য মাহমুদ ফিরোজ দুঃখ প্রকাশ করেন আরও বলেন, বিভিন্ন দেশ আমাকে অর্থনৈতিক
সহযোগীতা দিতে চান কিন্তু তা আমি নেইনি। কারন, এতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন
হবে। তাই বর্তমান সরকার আমাকে স্বীকৃতি প্রদান ও সহযোগীতা না করলে এ জাদুঘর আমার
স্বপ্ন, স্বপ্নই থেকে যাবে। হয়তো বা বাস্তবে রুপ নিতে পারবে না।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..