অপরাধ

বারিধারায় পুলিশ খুন

  জাগোকন্ঠ ১০ জুন ২০২৪ , ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী কূটনৈতিক এলাকার বারিধারায় দায়িত্ব পালনকালে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে পুলিশ কনস্টেবল মনিরুল হককে খুব কাছ থেকে গুলি করেন আরেক কনস্টেবল কাউসার আলী। এতে ঘটনাস্থলে মারা যান মনিরুল । তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা সাংবাদিক দেরকে এ তথ্য জানিয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কাউসার ও মনিরুল একসঙ্গে ফিলিস্তিন দূতাবাসে নিরাপত্তার দায়িত্বে পালন করছিলেন। বাইরে দাঁড়িয়ে কে কতক্ষণ দায়িত্ব পালন করেন, তা নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরে মনিরুল কে এল পাতারি গুলি করে কাউসার।

শনিবার দিবাগত রাতে ফিলিস্তিন দূতাবাসের নিরাপত্তাকর্মীদের কক্ষের বাইরে এক গুলির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পথচারী যাপন দূতাবাসের এক গাড়ি চালক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তিনি গুলশানের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নিহত মনিরুলের ভাই পুলিশ কনস্টেবল মাহাবুবুল হক বাদী হয়ে আজ গুলশান থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছে। এই মামলার আসামি কাউসারকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

নিহত মনিরুলের বাড়ি নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলায়। আর কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা আসামি কাউসারের বাড়ি।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সাংবাদিকদেরকে জানান,
মনিরুল ও কাউসার ফিলিস্তিন দূতাবাসের কাউন্টারে দায়িত্ব পালন করছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী একজন ছিলেন কক্ষের ভেতরে। আরেকজন বাইরে। কাউসার চাকরিতে মনিরুল এর চেয়ে জ্যেষ্ঠ ছিলেন। তিনি চাইতেন মনিরুল তাকে সম্মান করুক। কিছুটা বেশি সময় বাইরে দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করুক। কিন্তু মনিরুল সেই কথা শুনতেন না। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে মনিরুলকে গুলি করেন কাওসার।

মনিরুলকে গুলির ঘটনার দৃশ্য ধরা পড়ছে ওই এলাকার একাধিক সিসি ক্যামেরা ফুটেজে। এতে দেখা গেছে দূতাবাসের ফুটপাতের রাস্তায় দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করছেন মনিরুল। সেখানে একটি পক্ষ থেকে অস্ত্র হাতে বেরিয়ে মনিরুলকে খুব কাছে থেকে গুলি করেন কাউসার। একপর্যায়ে রাস্তা পড়ে যান মনিরুল। তখন আরো কাছে এসে এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকেন। এর কিছুক্ষণ পর রাস্তার পরে থাকা মনিরুল অস্ত্র হাতে হাতে তুলে নিয়ে কক্ষের দিকে ফিরে যান কাওসার।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, কাওসারের সঙ্গে থাকা অস্ত্রটি গুলি ভর্তি ছিল। শুরু থেকেই তিনি অস্ত্রটির ট্রিগার ধরে ছিলেন। এতে অনেকগুলো গুলি লাগে মনিরুলের বা চোখসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ। কাউসার কাছ থেকে ২০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ টিএমপি গুলশান বিভাগের উপকমিশনার ডিসি রিফাত রহমান শামীম সাংবাদিকদের কে আরো বলেন কাউসারকে জিজ্ঞাসাবাদ এর জন্য আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। মনিরুলের মরদেহ এখনো শহীদ সড়তি মেডিকেল কলেজে মর্গে রয়েছে। একজন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহের সুরত আল প্রতিবেদন করা হবে। তারপর ময়নাতদন্ত করে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। মামলার বাদী মাহবুবুল হক সাংবাদিকদের কে বলেন গুলি করে আমার ছোট ভাইয়ের হত্যা করা হয়েছে আমি আইন গতভাবে দায়ী ব্যক্তির শাস্তি চাই।

আরও খবর: