অপরাধ

বাকলিয়ার জানে আলম মামলা, গ্রেপ্তার, তবুও কমেনি নির্যাতন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা নির্যাতিত শ্রমিক’দের

  জাগোকন্ঠ ৬ জুন ২০২৪ , ১২:১৮ অপরাহ্ণ

আলী আজগর ইসলাম (বাবু):

চাঁদাবাজি ও শ্রমিক নির্যাতন করে এসেছেন আলোচনায়, হয়েছে মামলা। কিন্তু তারপরেও দমে যাননি চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া এলাকার জানে আলম। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, শ্রমিক নির্যাতন, লুটপাট এবং ভূমিদস্যুতার অভিযোগ রয়েছে।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে সম্প্রতি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের (সিএমপি) কাছে একটি আবেদন জানিয়েছেন চট্টগ্রাম অটোটেম্পু শ্রমিক ইউনিয়নের নিরীহ শ্রমিকরা সাধারণ শ্রমিকদের ভাষ্য, জানে আলম কিশোর গ্যাং গড়ে তুলেছেন।
শ্রমিকদের আবেদনে উল্লেখ করেছেন, জানে আলম গত দশ বছর ধরে বিভিন্নভাবে অটোটেম্পু শ্রমিকদের নাজেহাল করছেন। প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা। এছাড়া একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পরও বিভিন্ন কৌশলে পার পেয়ে যাচ্ছেন তিনি।

জানে আলম নারী ও শিশু নির্যাতন কারী মামলার আসামি ডাকাত দলের সদ্দার সহ একাধিক মামলার আসামি। এছাড়াও কিশোর গাং এর মাধ্যমে ইয়াবা বিক্রি করে তথ্য অনু সন্ধানে জানা যায়, তিনি গত ২১ মে চাঁদাবাজির একটি মামলায় বাকলিয়া থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন।

জানা গেছে, পরিবহন শ্রমিকদের জিম্মি করে জানে আলম এমন কোনো অপরাধ নেই যা বাকলিয়া ও কোতোয়ালি থানা এলাকায় করেননি। গত ২৩ সেপ্টেম্বর বাকলিয়া থানার কর্ণফুলী সেতু সংযোগ সড়কের রাজাখালি এলাকায় সদ্যপ্রয়াত হাজী আবুল কাশেমের মালিকানাধীন বাংলাদেশ টিম্বার নামক প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক লুটপাট ও অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টার অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে মামলা নিলেও তার বিরুদ্ধে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী।

ওই মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাকলিয়া থানার রাজাখালী মীর ফিলিং স্টেশনের পূর্ব পাশে ১০ বছর ধরে বাংলাদেশ টিম্বার ডিপো নামে ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর রাত দেড়টার দিকে জানে আলম ও তার বাহিনী প্রতিষ্ঠানের দেয়াল ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে প্রতিষ্ঠানের দারোয়ানসহ অন্য কর্মচারীদের ওপর হামলা চালায়। এতে কেয়ারটেকার রাজু আহত হন।

মামলার বাদী নজরুল ইসলাম জানান, হামলাকারীদের এমন হামলার প্রেক্ষিতে ডিপোতে কর্মরত অন্য কর্মচারীরা ভয়ে পালিয়ে গেলে দুষ্কৃতিকারীরা তাদের এবং ভাড়াটিয়ার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এতে প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকার মালামল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসময় অফিসের লকার ভেঙ্গে লক্ষাধিক টাকাও লুট করে নিয়ে যায়।

নজরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পুলিশ নিয়ে গেলেও পুলিশ নীরব দর্শকের মতন দাঁড়িয়ে থাকে। পরে থানায় মামলা করতে গেলে ওসি থানায় নেই জানিয়ে মামলা নিতে অপারগতা প্রকাশ করে। পরে সিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানালে প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর মামলাটি নিতে বাধ্য হয় পুলিশ। মামলায় জানে আলমকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

আরও খবর: