ধর্ম

বই পাঠে ইসলামের অনুপ্রেরণা

  জাগো কণ্ঠ ডেস্ক ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ , ৬:২২ পূর্বাহ্ণ

পৃথিবীতে বিনোদনের কত কিছুই না আবিষ্কৃত হয়েছে, কিন্তু বই পড়ার নির্মল আনন্দের কাছে সেগুলো সমতুল্য হতে পারেনি। জগতে শিক্ষার আলো, নীতি-আদর্শ, ইতিহাস-ঐতিহ্য, কৃষ্টি-সভ্যতা, সাহিত্য-সংস্কৃতি—সবই জ্ঞানের প্রতীক বইয়ের মধ্যে নিহিত। মানুষের আলোকিত জীবনের উপকরণ হচ্ছে বই।

বই পড়ার সঙ্গে ইসলামের রয়েছে গভীর যোগাযোগ। পবিত্র কোরআনের প্রথম অবতীর্ণ শব্দই হলো ইকরা বা পড়ো। এটি আদেশমূলক ক্রিয়াপদ। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘পড়ো তোমার প্রভুর নামে, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। যিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন, জমাট রক্তপিণ্ড থেকে। পড়ো…।’ (সুরা আলাক, আয়াত : ১-৩)

জ্ঞানের মাধ্যমেই মানুষ আপন রবের সন্ধান পায়, জ্ঞানই মানুষকে আল্লাহভীরু করে তোলে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘বল, যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি সমান হতে পারে?’ (সুরা যুমার : ৯)।

পবিত্র কোরআনে আরও বর্ণিত হয়েছে, ‘আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে জ্ঞানীরাই কেবল আল্লাহকে ভয় করে।’ (সুরা ফাতির : ২৮)।

যারা জ্ঞান অর্জন করে আল্লাহ তাদের মর্যাদা সমুন্নত করে দেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে আল্লাহ তাদের মর্যাদা সমুন্নত করবেন। আর তোমরা যা কর আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবহিত।’ (সুরা মুজাদালাহ : ১১)।

জ্ঞান অন্বেষণ করা এতই মর্যাদাপূর্ণ যে, ইসলামী জ্ঞান অন্বেষণকারীর জন্য আকাশ ও জমিনের সব কিছুই ক্ষমা প্রার্থনা করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দ্বীনি জ্ঞান অন্বেষণকারীর জন্য জগতের সব কিছুই (আল্লাহ তায়ালার দরবারে) ক্ষমা প্রার্থনা করে। এমনকি পানির মাছও। (আবু দাউদ, তিরমিজি)।

পার্থিব জীবনযাত্রার প্রয়োজনীয় ও কল্যাণকর জ্ঞান অর্জনও ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে কাম্য। যেমন চিকিৎসা, গণিত, কৃষি, রাষ্ট্রনীতি, বিজ্ঞান, দর্শন ইত্যাদি। গোটা জনপদে যদি এই জ্ঞানের পারদর্শী কেউ না থাকে, তাহলে সবাই কষ্টে পতিত হবে। পক্ষান্তরে যে জ্ঞান মানুষকে অকল্যাণের দিকে নিয়ে যায়, তা চর্চা করা হারাম। যেমন ইসলামবিরোধী প্রাচীন ও আধুনিক দর্শন, কুফরি সাহিত্য ইত্যাদি। তদ্রুপ অকল্যাণকর ও অপ্রয়োজনীয় বিষয় চর্চা করাও নিষিদ্ধ। (ইহইয়াউ উলুমিদদীন : ১/২৯-৩০)