স্বাস্থ্য

পেটব্যথায় ৩০ শতাংশ ক্ষেত্রে কারণ নির্ণয় করা যায় না

  জাগোকন্ঠ ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২ , ১২:৩২ অপরাহ্ণ

প্রতিদিন পেটের ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে অসংখ্য রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। অধিকাংশ কারণ নির্ণয় করা গেলেও প্রায় ৩০ শতাংশ ক্ষেত্রে কারণ নির্ণয় করা যায় না।

রোববার (১১ সেপ্টেম্বর) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) আয়োজিত এক সেমিনারে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. রোকুনুজ্জামান, সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এস.এম. সাঈদ উল আলম, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. ফজলুল করিম চৌধুরী।

চিকিৎসকরা বলেন, পেটে ব্যথায় আর অবহেলা নয়। পেটে ব্যথা হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে নিকটস্থ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে সঠিক চিকিৎসা করলে এ উপসর্গ থেকে দীর্ঘমেয়াদি পরিত্রাণ পাওয়া যায়।

সেমিনারে বলা হয়, পেটের রোগের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ব্যথা। প্রতিদিন পেটের ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে অসংখ্য রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন, যার অধিকাংশ কারণ নির্ণয় করা গেলেও প্রায় ৩০ শতাংশ কারণ নির্ণয় করা যায় না। পেটে ব্যথার অন্যতম কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে- পেপটিক আলসার ডিজিজ, অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ, আইবিএস, পিত্তথলির প্রদাহ, পিত্তথলি ও পিত্তনালীর ভেতরে পাথর, লিভারের প্রদাহ (হেপাটাইটিস) ইত্যাদি।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, কিছু ক্ষেত্রে, পেটে ব্যথা মৃত্যুর কারণ হতে পারে। যেমন- পাকস্থলী, অগ্ন্যাশয়, কোলন ও পিত্তথলির ক্যান্সার। রোগীর ইতিহাস, শারীরিক ও ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে সঠিক সময়ের মধ্যে পেটে ব্যথার কারণ সম্পর্কে জানা যায়। কিছু ক্ষেত্রে বুকের ইসিজি, আলট্রাসনোগ্রাম, সিটি স্ক্যান, এন্ডোস্কপি, কোলনস্কপি পরীক্ষাগুলো করার বিশেষ প্রয়োজন হয়।

বক্তারা বলেন, শরীরের বিভিন্ন রোগের উপসর্গের ক্ষেত্রে পেটে ব্যথা অন্যতম, যা অনেকাংশেই অনির্ণীত থাকে, যেমন হার্টের রোগ। বয়স্ক রোগী, মহিলা ও অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের রোগীরা এ সমস্যায় বেশি ভোগেন। পেটে ব্যথার উপসর্গ নিয়ে অনেকে চিকিৎসকের কাছে আসেন। এসব রোগের মধ্যে এপেন্ডিসাইটিস, পিত্তথলির পাথর, অন্ত্র ফুটো হয়ে যাওয়া, অন্ত্রে প্যাচ লেগে যাওয়া, নারীদের ক্ষেত্রে ডিম্বাশয়ের নালীতে প্যাচ লেগে যাওয়া অন্যতম।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, যে কোনো ব্যথাই মৃত্যুর কারণ হতে পারে। সঠিকভাবে পরীক্ষা না করে রাতে পেটে ব্যথা হলে গ্যাসের ওষুধ খেয়ে শুয়ে থাকলে মৃত্যুও হতে পারে। ভোর রাতের ব্যথা মারাত্মক আকার ধারণ করে। মনে রাখতে হবে, ভোর রাতেই ব্যথায় মৃত্যুর হার বেশি। তাই পেটে ব্যথাকে অবহেলা না করে নিকটস্থ চিকিৎসা কেন্দ্রে গিয়ে যথাযথ সেবা নিতে হবে। অনেক কারণেই পেটে ব্যথা হতে পারে। তাই পেটের ব্যথাকে গ্যাসের ব্যথা ভেবে ওষুধ খাওয়া ঠিক না।

তিনি বলেন, আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা আমাদের স্বপ্নের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল উদ্বোধন করবেন। এ হাসপাতাল চালু হলে স্বাস্থ্যখাতে আরেকটি নবদিগন্তের সূচনা হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা খুব তাড়াতাড়ি ২৫ জন চিকিৎসককে পিএইচডি কোর্সে এনরোলমেন্ট করতে যাচ্ছি। বিভাগের ফ্যাকাল্টির পাশাপাশি রেসিডেন্টদেরকে গবেষণায় আগ্রহী করতে আমাদের অনেক উদ্যোগ রয়েছে।

সেমিনারে তিনটি প্রবন্ধের ওপর বিশেষ অতিথি হিসেবে আলোচনা করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ হোসেন, উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয় সেন্ট্রাল সাব কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. বেলায়েত হোসেন সিদ্দিকী। সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয় সেন্ট্রাল সাব কমিটির সদস্য সচিব নিউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ (সবুজ) ও রেসপাইরেটরি মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সম্প্রীতি ইসলাম।

আরও খবর: