দেশজুড়ে

পদ্মা সেতু খুলে দেয়ার প্রভাব নদী পথে

  জাগোকন্ঠ ২৬ জুন ২০২২ , ৩:৪১ অপরাহ্ণ

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:


পদ্মা সেতুর চালুর প্রভাব পরেছে নদী পথে। আমতলী ল ঘাট দিয়ে তেমন যাত্রী লে যাচ্ছে না। অধিকাংশ অসুস্থ রোগীরাই লে র যাত্রী। ল কতৃর্পক্ষ দাবী করছেন পদ্মা সেতুর খুলে দেয়ায় তেমন প্রভাব পরেনি। যাত্রীরা দাবী করছেন, সড়ক পথে দ্রুত যাওয়ার কারনে নদী পথ লে যাত্রী কমে গেছে।

জানাগেছে, নদীপথ আমতলী-ঢাকা রুটে এমভি তরঙ্গ—৭, এমভি ইয়াদ—১, এমভি সুন্দরবন—৭ ও ঈদ ষ্পেশাল এমভি শতাব্দি বাঁধন নামের চারখানা ল সার্ভিস রয়েছে। আমতলী ল ঘাট থেকে প্রতিদিন অন্তত ৫’শ থেকে ৬’শ যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে লে যায়। কিন্তু পদ্মা সেতুর খুলে দেয়ার প্রভাবে প্রথম দিন (বরিবার) লে যাত্রী সংখ্যা কমে গেছে। সময় নিয়ন্ত্রনে মানুষ নদী পথ পরিহার করে সড়ক পথে যেতে শুরু করেছে। লে যারা যাচ্ছেন তাদের অধিকাংশই অসুস্থ ও পরিবার পরিজন নিয়ে যাচ্ছেন।

বরিবার আমতলী ল ঘাট ঘুরে দেখাগেছে, লে যাত্রী নেই। দুুপুর ২ টা পর্যন্ত আমতলী ঘটে এমভি তরঙ্গ—৭ লে মাত্র ৪৫ জন যাত্রী বিছানা পেতে বসে আসেন। ওই ৪৫ জন যাত্রীর মধ্যে ৯ জন যাত্রীর সঙ্গে কথা হয়। তারা পরিবার পরিজন নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছেন। ৯ জন যাত্রীর মধ্যে আবার ৬ জনই রোগী। লে ৯৭ টি কেবিনের কোন যাত্রী আসেনি। ৩৫ টি কেবিন বুকিং হয়েছে। ওই যাত্রী আসা নিয়ে সংশয় রয়েছে ল কতৃর্পক্ষ। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার আগে প্রতিদিন দুপুর ২ টা পর্যন্ত দের থেকে দুই শতাধিক যাত্রী ঘাটে টোল দিয়ে লে ওঠে বিছানা পেতে বসে থাকতো বলে জানান টোল আদায়কারী মোঃ হানিফ গাজী। কিন্তু পদ্মা সেতু চালুর প্রথম দিনে লে যাত্রী নেই। মাত্র ৪৫ জন যাত্রী টোল দিয়েছেন। এদিকে ল কতৃর্পক্ষ দাবী করেন পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় প্রভাব লে পরেনি। চারদিন ল চলাচল বন্ধ ছিল বিধায় লে যাত্রী কম। কিন্তু যাত্রীরা দাবী করেন সময় নিয়ন্ত্রনে মানুষ নদী পথ পরিহার করে সড়ক পথে যাতায়াত শুরু করেছে।

নাচনাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ল যাত্রী মাওলানা মোঃ আবু জাফর বলেন, মেয়ে অসুস্থ তাই লে ঢাকা যাচ্ছি। নইলে এতো সময় ব্যয় করে লে যেতাম না। তিনি আরো বলেন, লে ঢাকা পৌছতে ১২ থেকে ১৩ ঘন্টা সময় লাগে। আর সড়ক পথে বাসে যেতে সময় লাগে মাত্র ৬ ঘন্টা।

উত্তর টিয়াখালী গ্রামের ট্রাক চালক মোঃ বাচ্চু হাওলাদার বলেন, পরিবার পরিজন নিয়ে ঢাকায় যেতে হয় বিধায় লে যাচ্ছি। নইলে এখন লে ঢাকা যাওয়ার প্রশ্নই উঠে না। তিনি আরো বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় নদী পথের অর্ধেক সময় কম লাগে সড়ক পথে।

দক্ষিণ পশ্চিম আমতলী গ্রামের বাসিন্দা লাকি বেগম বলেন, বাসে উঠলে অসুস্থ্য হয়ে যাই। তাই লে ঢাকা যাচ্ছি।

চালিতাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন, আমার হার্টে সমস্যা গাড়ীতে চড়তে সমস্যা হয়। তাই ডাক্তার দেখাতে লে ঢাকা যাচ্ছি।

তালতলী উপজেলার গেন্ডামারা গ্রামের বাসিন্দা নারী যাত্রী জাহানারা বেগম ও আমতলীর শাহিদা বেগম বলেন, লে নিরাপদে ঘুমিয়ে যাওয়া যায়, তাই সময় হলেও লে যাচ্ছি। তারা লে র ভাড়া কমানোর দাবী জানান।

তালতলীর নলবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা মমতাজ বেগম বলেন, হার্টে সমস্যা গাড়ীতে চড়তে পারিনা। তাই সময় বেশী লাগলেও নিরাপদে লে যাচ্ছি।

আমতলী ল ঘাটে টোল আদায়কারী মোঃ হানিফ গাজী বলেন, যাত্রী অনেক কম। পদ্মা সেতু চালুর আগে প্রতিদিন এমন মুহুর্তে (দুপুর ২ টা পর্যন্ত) অন্তত দের থেকে দুই শতাধিক যাত্রী টোল দিয়ে লে যেতে কিন্তু এখন পর্যন্ত মাত্র ৪৫ জন যাত্রী টোল দিয়ে লে গেছেন।

এমভি তরঙ্গ লে র টিকেট মাষ্টার মোঃ জসিম উদ্দিন যাত্রী কমের কথা স্বীকার করে বলেন, লে ৯৭ টি কেবিন আছে। তার মধ্যে ৩৫ টি কেবিন বুকিং হয়েছে। তাও যাত্রী আসবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

এমভি তরঙ্গ-৭ লে র সুপার ভাইজার মোঃ হুমায়ুন কবির পদ্মা সেতু চালু হওয়ার যাত্রী কমের কথা অস্বীকার করে বলেন, চার দিন ল বন্ধ ছিল বিধায় যাত্রী কম। তিনি আরো বলেন, পদ্মা সেতুর প্রভাব নদী পথে পরবে কিনা তা এখনো বলা যাবে না। কিন্তু দিন গেলে বুঝতে পারবো।

আরও খবর: