দেশজুড়ে

নতুন করে রঙ্গিন বাড়ি পেলো ১৯৭টি গৃহহীন-ভূমিহীন পরিবার

  জাগোকন্ঠ ২১ জুলাই ২০২২ , ৪:০৬ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিনিধি:

নওগাঁ জেলার প্রথম উপজেলা হিসেবে শতভাগ গৃহহীন-ভূমিহীন মুক্ত হিসেবে ঘোষণা হলো রাণীনগর উপজেলা। বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ভিড়িও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা দেশে আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় নতুন করে নির্মিত বাড়িগুলো হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী পুরো দেশের ৫২টি উপজেলাকে গৃহহীন-ভূমিহীন মুক্ত ঘোষনা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরেই রাণীনগর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উপজেলার আমিরপুর গ্রামে নতুন করে নির্মিত বারটি আশ্রয়নের বাড়িগুলোর মালিকানার নথিপত্র সুবিধাভোগীদের মাঝে আনুষ্ঠানিক ভাবে হস্তান্তর করা হয়। এসময় প্রধানমন্ত্রীর উপহার স্বপ্নের রঙ্গিন বাড়ি পেয়ে আবেগাল্পুত হয়ে পড়ে সুবিধাভোগীরা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাত হুসেইনের সভাপতিত্বে ও যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আশিষ কুমার ঘোষের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ও নথিপত্র তুলে দেন জেলা প্রশাসক খালিদ মেহেদী হাসান।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ দুলু, ভাইস চেয়ারম্যান ফরিদা বেগম, সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কেএইচএম ইফতেখারুল আলম খাঁন, কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম, প্রকৌশলী শাহ মো. শহীদুল হক, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ। এছাড়াও উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী, মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ইউপি চেয়ারম্যানবৃন্দ ও সুধীবৃন্দ। অনুষ্ঠান শেষে জেলার প্রথম উপজেলা হিসেবে রাণীনগর উপজেলাকে শতভাগ গৃহহীন-ভূমিহীন মুক্ত ঘোষনা করার আনন্দে অনুষ্ঠানে আগত সকলকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মিষ্টি মুখ করানো হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাত হুসেইন বলেন, মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক গৃহিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের কয়েকটি ধাপের আওতায় উপজেলার একডালা, কালীগ্রাম, বড়গাছা ও কাশিমপুর ইউনিয়নে ১ম পর্যায়ে ৯০টি, ২য় পর্যায়ে ৩৩টি ও ৩য় পর্যায়ে ৫৩টিসহ মোট ১৭৬টি গৃহহীন-ভূমিহীন পরিবারকে পুর্নবাসন করা হয়েছে। দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট প্রতিটি বাড়িতে দুটি কক্ষ, সংযুক্ত রান্নাঘর, টয়লেট ও সামনে খোলা বারান্দাও রয়েছে। প্রতিটি আশ্রয়ন পল্লীতে বাড়ি নির্মাণের সঙ্গে সঙ্গেই বিদ্যুৎ সংযোগ, বিশুদ্ধ পানির জন্য টিউবয়েল স্থাপন, চলাচলের জন্য রাস্তা ও নামাযের জন্য মসজিদসহ প্রধান প্রধান প্রয়োজনগুলো নিশ্চিত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার জেলার ৮টি উপজেলায় ১৯৭টি গৃহহীন-ভূমিহীন পরিবারের মাঝে নতুন করে এই বাড়িগুলোর মালিকানা হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া জেলার ১১টি উপজেলায় এর আগে প্রথম ধাপে ১হাজার ৫৬টি ও দ্বিতীয় ধাপে ৫০২টি, ৩য় পর্যায়ের ১ম ধাপে ৫৪০টিসহ মোট ২হাজার ৯৮টি গৃহহীন ও ভৃমিহীন পরিবারের পুনর্বাসন করা হয়েছে।

আরও খবর: