1. mdmobinali112@gmail.com : admin2020 :
  2. mdalimobin112@gmail.com : Ali Mobin : Ali Mobin
বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ০৫:০৩ পূর্বাহ্ন

দাকোপ উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা জনাব মোঃমেহেী হাসাসের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ | জাগোকণ্ঠ

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২ মে, ২০২০

স্বপন কুমার রায়,খুলনা ব্যুরো প্রধানঃ

উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা জনাব মেহেদী গাসান বলেন দাকোপের ৯ টি ইউনিয়নের মধ্যে বাজুয়া, দাকোপ, কৈলাশগঞ্জ, লাউডোপ ও বানীশান্তা ইউনিয়নে ব্যাপক হারে তরমুজসহ বিভিন্ন ধরনের সব্জির চাষা কারকিত হয়েছে। এ ছাড়া কামারখোলা, তিলডাঙ্গা, পানখালী এবং চালনা পৌরসভার উল্লেখযোগ্য সংখ্যাক জমি এবার এই চাষাআবাদের আওতায় এসেছে। সব মিলে দাকোপে এবার ১৫৩৫ হেক্টর জমিতে তরমুজ, ১৫ হেক্টর বাঙ্গি, ৪০৮ হেক্টর সব্জি, ৪০ হেক্টর সূর্যমূখী, ভূট্টা, মুগডাল, তিল এবং ৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান উৎপাদন হয়েছে। যা টাকার অংকে কেবল তরমুজ বিক্রি থেকে ৫ শত কোটি টাকা আয়ের আশা করা হচ্ছে। বিঘা প্রতি তরমুজের উৎপাদন খরচ পড়েছে ১৬/১৮ হাজার টাকা, বিপরীতে ৪৫/৫০ হাজার টাকা বিক্রি হবে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন চাষিরা। দেশে উৎপাদিত তরমুজের মধ্যে সুস্বাধু এবং ভাল ফলনের কারণে দাকোপের তরমুজের চাহিদা অপেক্ষাকৃত অনেক বেশী। ঢাকা চট্টগ্রামসহ দেশের বাজার ছাড়িয়ে বিদেশে রপ্তানী হয়ে থাকে এখানকার তরমুজ। বর্তমানে মাঠে ফলন উপযুক্ত হয়ে যাওয়ায় এখানে শুরু হয়েছে তরমুজ বিক্রির কার্যক্রম। কিন্তু দেশে চলমান করোনা ভাইরাসের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে তরমুজ বিক্রিতে। সাধারণত ঢাকা চট্টগ্রাম নারায়নগঞ্জ বরিশালসহ বড় মোকামের পাইকারী ব্যবসায়ীরা এখানে এসে তরমুজ কিনে থাকে। কিন্তু করোনা সংক্রমন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় এবার ওই সকল এলাকা থেকে ব্যাপারীরা আসতে পারছেনা তবে এসব এলাকা থেকে কিছু ব্যাপরী কে ক্ষেতে লক্ষ করা যাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন জনসাধারণের করোনা ঝুকির কথা মাথায় রেখে তরমুজ কেনা বেচায় বেশ কিছু নিয়মনীতি বেঁধে দিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল ওয়াদুদ জানিয়েছেন, একদিকে কৃষককে বাঁচাতে হবে অপরদিকে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে আমরা ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ীর বৈধ কাগজপত্র, আইডি কার্ড এবং স্বাস্থ্য সনদ প্রদর্শনের শর্তে খুলনা সাতক্ষিরা বাগেরহাট যশোর এলাকার পরিবহন গাড়ী ও ড্রাইভারদের এখানে আসার অনুমতি দিয়েছি। অনুরুপ শর্তে একই অঞ্চলের ক্রেতা বা ব্যাপারীদের দাকোপে এসে তরমুজ কেনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে অন্যান্য বহিরাগতদের মধ্যে কেউ যদি তরমুজ চাষাবাদের সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট থাকে তাদেরকে স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কৃষকরা আশাবাদী নায্যমূল্য পেলে উৎপাদন খরচের দ্বিগুন ব্যবসা হবে। তবে যদি পাইকারী ক্রেতা আসতে না পারে তাহলে তারা পথে বসে যাবে এমনটা জানিয়েছেন। অনেকে আবার বিভিন্ন সমিতি অথবা মহাজনি সুদে টাকা নিয়ে চাষাবাদ করেছেন। অপরদিকে এখনি বিক্রির ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হলে কালবৈশাখীর মৌসুমে শুরু হওয়ায় বৃষ্টির পানি জমে তরমুজ ক্ষেতে পচন ধরার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সব মিলে তাদের দুঃশ্চিন্তার যেন শেষ নেই। বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে কৈলাশগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান মিহির মন্ডল বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় তিনি নিজ উদ্যোগে অনেক ব্যাপারীর খুলনা মেডিকেল কলেজ থেকে করোনা সংক্রান্ত পরিক্ষার প্রত্যায়ন নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেছেন। তিনি স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পাইকারী ক্রেতাদের আনার ব্যবস্থা করতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান খান বলেন, দেশে অন্যান্য নিত্যুপণ্য বিপনন ও পরিবহন যদি চলমান থাকতে পারে তবে কেন কৃষি পণ্য পারবেনা ? তিনি অর্থনৈতিক বৃহত্তর স্বার্থে যথাযথ স্বাস্থ্য বিধি মেনে ব্যাপারীদের দাকোপে আসার সুযোগ দেওয়া উচিত মন্তব্য করে বলেন অন্যথায় চাষিরা পথে বসে যাবে। তবে এলাকাবাসীর ভাষ্য সবার আগে ভাবতে হবে সার্বজনীন মানুষের নিরাপত্তা। যে কারণে করোনা মুক্ত আছে এমন উপযুক্ত সনদ ছাড়া কেউ যেন এলাকায় ঢুকতে না পারে সে ব্যাপারে যেমন সজাগ থাকতে হবে, তেমনি দাকোপের অর্থনীতির শক্তিশালী ভিত তরমুজ চাষিদের বিশেষ ব্যবস্থায় রক্ষা করতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..