দেশজুড়ে

তাঁর কাটার বেড়ায় আমতলীর ৫০ পরিবার অবরুদ্ধ, রাস্তার গাছ কেটে বিক্রি

  জাগোকন্ঠ ১ আগস্ট ২০২২ , ১:৪১ অপরাহ্ণ

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:

তাঁর কাটার বেড়ায় প্রায় অবরুদ্ধ আমতলী উপজেলার দক্ষিণ কালিপুরা গ্রামের ৫০ পরিবার। একই গ্রামের বাসিন্দা সামসুল হক প্যাদা ও তার ছেলে সেনা সদস্য আরিফুর রহমান প্যাদা তার কাটার বেড়া দিয়ে বন্দোবস্তের নামে জমি দখল করে নিয়েছেন এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। ভুক্তভোগী সুলতান, নিজাম ও শহীদুল খাঁন অভিযোগ করেন সামসুল হক প্যাদা তার ছেলে সেনা সদস্য প্রভাব খাটিয়ে সন্ত্রাসী এনে অস্ত্রের মুখে গ্রাম বাসীকে জিম্মি করে বন্দোবস্তের নামে জমি দখল করে নিয়েছেন এবং কাঁচা সড়কের দুই পাশের শারি (বয়স্ক) গাছ কেটে অন্তত ২০ লক্ষ টাকায় বিক্রি করেছেন । তার ও তার ছেলের ভয়ে গ্রামবাসী আতঙ্কিত। জিম্মিদশা ও জমি দখল মুক্ত এবং তাদের শাস্তির দাবীতে এলাকাবাসী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে।

জানাগেছে, উপজেলার কালিপুরা গ্রামের সামসুল হক প্যাদা ও তার স্ত্রী আমেনা বেগম ২০০৬ সালে ভুয়া ভুমিহীন সেজে উপজেলা ভুমি অফিসে জমি বন্দোবস্তের আবেদন করেন। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১১ সালে সরকার তাকে এক একর জমি বন্দোবস্ত দেয়। তার বন্দোবস্ত পাওয়া জমিতে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে দক্ষিণ কালিপুরা গ্রামের মানুষ বাড়ীঘর নিমার্ণ করে বসবাস করে আসছেন। বন্দোবস্ত পেয়ে ওই জমি তিনি দখল করতে যান কিন্তু এলাকাবাসীর বাঁধার কারনে তখন দখল করতে পারেনি। পরে এলাকাবাসী বন্দোবস্ত জমি বাতিলের দাবিতে বরগুনা জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করেন। ২০১১ সালের তৎকালিন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মোসাঃ শিরিন শবনম সরেজমিনে তদন্ত করে সামসুল হক প্যাদা ভুমিহীন নয় মর্মে তার বন্দোবস্ত জমি বাতিলের সুপারিশ করেন। ওই সুপারিশ উপজেলা ভুমি বন্দোবস্ত ব্যবস্থাপনা কমিটি অনুমোদন দেয়। এ ঘটনার পর দীর্ঘ ১১ বছর সামসুল হক প্যাদা নিরবে ছিলেন। গত ২০১৯ সালে তার ছেলে মোঃ আরিফুর রহমান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে চাকুরী পান। ছেলে সেনাবাহিনীতে চাকুরীর সুবাদে নড়েচড়ে বসে সামসুল হক প্যাদা। ভুক্তভোগী বশির তালুকদার, আকলিমা, হালিমা, সেকান্দার হাওলাদার ও রাজ্জাক মিয়া অভিযোগ করেন, গত ১৭ জুন বরিশাল শেখ হাসিনা সেনানিবাসে কর্মরত সেনা সদস্য আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে ৩০—৪০ জন সন্ত্রাসী এনে গ্রামের মানুষকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গ্রামবাসীর ভোগদখলকৃত জমি দখল করে নেন। পরে ওই জমিতে তার কাটার বেড়া দিয়ে দেয়। এতে ওই এলাকার ৫০ পরিবারের চলাচলের পথ প্রায় বন্ধ এবং অবরুদ্ধ বলে দাবী করেন ভুক্তভোগীরা। অনেক পরিবারের পারিবারিক কবরস্থান দখল করে নিয়েছে তারা। দখল করেই খ্যান্ত হয়নি সেনা সদস্য ও তার বাবা। ওই জমির ওপর দিয়ে এডিপির অথার্য়নে নির্মিত রাস্তার দুই পাশের অন্তত ৫ শতাধিক শারি গাছ কেটে ২০ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন। সেনা সদস্যের ভয়ে এলাকাবাসী প্রতিবাদ করতে সাহস পায়নি। আরিফুর রহমান ও তার বাবার এমন কর্মকান্ডের বিচার দাবীতে গ্রামবাসী দক্ষিণ কালিপুরা গ্রামে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে। নারী ইউপি সদস্য তাসলিমা বেগমের সভাপতিত্বে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন প্রধান শিক্ষক মোঃ ফারুক আলম, আতিকুর রহমান ও সহকারী শিক্ষক শাহানুর তালুকদার প্রমুখ। বক্তারা বলেন, সেনা সদস্য আরিফুর রহমান সন্ত্রাসী এনে অস্ত্রের মুখে গ্রামবাসীকে জিম্মি করে জমি দখল করে তাঁর কাটার বেড়া দিয়ে দেয় এবং রাস্তার দুই পাশের অন্তত ৫ শতাধিক গাছ কেটে বিক্রি করে দিয়েছেন। তারা আরা বলেন, সেনা সদস্যের ভয়ে এলাকার ৫০ পরিবার আতঙ্কিত। প্রতিনিয়ত গ্রামবাসীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছে। সেনা সদস্য ও তার পরিবারের জিম্মিদশা থেকে আমরা মুক্তি চাই। এ ঘটনায় সোমবার ভুক্তভোগীরা উপজেলা নিবার্হী অফিসার কাছে অভিযোগ দিয়েছেন।

সরেজমিনে ঘুরে দেখাগেছে, দক্ষিণ কালিপুরা গ্রামের প্রায় আঁধা কিলোমিটার কাঁচা রাস্তার দুই পাশে শারি গাছের মুল পড়ে আছে। গাছ কেটে নিয়ে গেছে। সকল বাড়ীর সামনে তাঁর কাটার বেড়া দেয়া। বেড়া দেয়ায় এলাকার মানুষের চলাচল প্রায় বন্ধ। খামার থেকে গরুর বাহিরে নামতে পারছে না। বিভিন্ন বাড়ীর আঙ্গিনা ও কবরস্থান জুড়ে রয়েছে তাঁর কাটার বেড়া।

ভুক্তভোগী নারী হালিমা কান্নাজনিত কন্ঠে বলেন, সেনাবাহিনী আরিইফ্ফা আইয়্যা অস্ত্র দ্যাহাইয়্যা মোগো জমি দহল হইর‌্যা লইয়্যা গ্যাছে। মুই নাইম্ম্যা গাছ কাটতে মানা হরছি। মোরো আরিফইয়্যা পিস্তল দ্যাহাইয়্যা কয় গুইল্লি মারমু। মুই ডরে দৌড়াইয়্যা ঘরে আইছি। মুই এ্যাইয়্যার বিচার চাই।

সেনা সদস্যের বাবা সামসুল হক প্যাদা গাছ কেটে বিক্রি ও জমি দখল করে তাঁর কাটা দেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, আমার ছেলে কিছুই করে নাই। আমি জমি না পেলে ছেড়ে দিব।

সেনা সদস্য মোঃ আরিফুর রহমান মুঠোফোনে (০১৭৫৬৭২৩৩৯২) সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বাবার জমির গাছ কেটে নিয়েছি।

আমতলী থানার ওসি একেএম মিজানুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আমতলী উপজেলা নিবার্হী অফিসার একেএম আব্দুল্লাহ বিন রশিদ বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। দ্রুত তদন্ত করে কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও খবর: