1. mdmobinali112@gmail.com : admin2020 :
  2. mdalimobin112@gmail.com : Ali Mobin : Ali Mobin
রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন

ঝলমলিয়া দিঘীতে নির্ভরশীল ৮ গ্রামের মানুষ |জাগোকণ্ঠ

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সুজন মজুমদার (বাগেরহাট) রামপাল প্রতিনিধিঃ

বাগেরহাটের রামপাল ও মোংলা উপজেলার সীমান্তবর্তী হুড়কা ও বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের প্রায় আট গ্রামের
মানুষের সুপেয় পানির উৎস ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী “ঝলমলিয়া দিঘী। দিঘীর চারদিকে লবনাক্ত পানি।
সারাবছরই দিঘীতে থাকে মিষ্টি পানি। দূর দূরন্ত থেকেও এই সুপেয় পানি নিতে ছুটে আসেন শত-শত নারী
ও পুরুষ। আবার এই পুকুরের পানি বিক্রয়ের মাধ্যমে জীবীকা নির্বাহ করে অনেকে। এই দিঘীর সুপেয় মিষ্টি
পানির উপর নির্ভরশীল এখানকার হাজার হাজার পরিবার। কিন্তু দিঘীতে শেওলা ও কচুরীপানা বেড়ে উঠায়
পানি সংগ্রহ করতে ভোগান্তিতে পড়েন অনেকে।
শনিবার সকাল থেকে স্থানীয়রা সেচ্ছাশ্রমে দিঘীর কচুরিপানা পরিষ্কাকের কাজ শুরু করেন। নিরাপদ পানি
পরিষ্কার রাখতে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও অনুরূপভাবে ঝলমলিয়া দূর্গা মন্দির কমিটির আয়োজনে ও স্থানীয়
জনগণের সমন্বয়ে প্রায় শতাধিক জনগণ এই কচুরিপানা পরিষ্কারে অংশগ্রহণ করেন। শতাধিক লোকের এই
দিঘীর কচুরিপানা পরিষ্কার সম্পন্ন করতে আরো লাগবে প্রায় চারদিন। ১৬ বিঘা দিঘির সুপেয় পানি রক্ষার্থে
এই উদ্যেগকে স্বাগত জানিয়েছে হুড়কা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তপন কুমার গোলদার।
স্থানীয় শিবানন্দ রায়, এটিইও পুষ্পজিৎ মন্ডল, এ্যাডভোকেট দিব্যেন্দু বোস বলেন, চারিদিক নোনাজলে বেষ্টনী
পানি সারাবছরই থাকে মিষ্টি। দূর দূরন্ত থেকেও এই সুপেয় মিষ্টি জল নিতে ছুটে আসেন শত-শত মানুষেরা।
আবার এই পুকুরের জল বহন করে তা বিক্রয়ের মাধ্যমে জীবন বাঁচে অনেক পরিবারেরও। পুকুরে স্নান ও
হাত-মুখ ধোঁয়া, গবাদিপশু পুকুরে নেমে জল নষ্ট করা, ময়লা আবর্জনা ফেলা, পুকুরের মাছ নিধন সম্পুর্ণ
নিষিদ্ধ। ঐতিহ্যের এই পুকুর সংস্কার ও সুপেয় জল নিরাপদ রাখতে তাই স্থানীয়দের সমন্বয়ে নেই কোন
কার্পণ্যতা।
ঝলমলিয়া দিঘীর শ্যাওলা ও কচুরিপানা পরিষ্কারে অংশগ্রহণ করেন, সুজন মজুমদার, মহানন্দ হালদার, ইউপি
সদস্য আব্দুল্লা মোড়ল, শিশির মন্ডল, মতিউর সরদার, রিপন মন্ডল, অক্ষয় বিশ্বাস, স্বপন মন্ডল, বিধান
রায়, শ্যামলি মন্ডল, প্রনব সমার্দার, সুকির্তি মন্ডল, আশিষ মন্ডল, প্রফুল্ল মন্ডল, বিভাষ মন্ডল, স্বপন
বিশ্বাস, শেখর চৌধুরী, জিতেন মন্ডল, অসিত বিশ্বাস, সুধন্য মন্ডল, সুচন্দনা মজুমদার, গায়েত্রী বিশ্বাস,
মিঠুন বাছাড়, বিশ্বজিৎ মন্ডল, নিতা মন্ডল, গোপেশ্বরি বাছাড়, বাসন্তি, কবিতা প্রমূখ।
হুড়কা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক বিচিত্র বীর্য পাড় বলেন, ‘ঐতিহ্যের এই পুকুর সংস্কার ও
দেখভাল সর্বদাই করে থাকি। আমাদের নির্ভরতার সুপেয় জলের একমাত্র এই ঝলমলিয়া দিঘীই ভরসা। তাই
এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে প্রতিবছরই পুকুরের শ্যাওলা ও কচুরিপানা পরিষ্কার করা হয়ে থাকে। যে কোন
মূল্য আমাদের এই পুকুরের জল নষ্ট না হয় সেজন্য আমরা সবাই সচেতনতা অবলম্বন করি’।
রামপালের হুড়কা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান তপন কুমার গোলদার বলেন,
‘রামপাল ও মোংলা উপজেলার সীমান্তবর্তী হুড়কা ও বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের প্রায় আট গ্রামের সুপেয় পানির
উৎস একমাত্র ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী “ঝলমলিয়া দিঘী। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গ্রামের নানা বয়সী মানুষ ছুটে
আসে পানি নিতে। আমাদের সমন্বয়ের কোন অভাব নেই পুকুর পরিষ্কারে তা আবারও প্রমাণ হলো। আমরা
একে অপরের পরিপূরক। চেয়ারম্যান নয় একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে এই পুকুরের সুপেয় মিষ্টি পানি
নিরাপদ ও পরিষ্কার রাখতে তৎপর রয়েছি। যে কোন ভালো কাজে আমি তাদের সাথে থাকি এবং সবসময়ই
পর্যবেক্ষণ ও পুকুরের সার্বিক উন্নয়নে আমার লক্ষ্য রয়েছে। এলাকাবাসীর সমন্বয়ে পুকুর পরিষ্কারে আমি
অভিনন্দনসহ তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..