1. mdmobinali112@gmail.com : admin2020 :
  2. mdalimobin112@gmail.com : Ali Mobin : Ali Mobin
বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন

করোনা মোকাবিলায় এক নিরব যোদ্ধা ৬ আনসার ব্যাটালিয়নের পরিচালক ও জেলা কমান্ড্যান্ট মোঃ জিয়াউল হাসান |জাগোকণ্ঠ

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২০

বিশেষ প্রতিনিধি: বিশ্বজুড়ে মূর্তিমান আতঙ্কের নাম করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯)। চীনের উহানে উৎপত্তির মাস দুয়েক পর  ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এরপরেই নড়েচড়ে বসে সরকার। দেশে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ১৮ মার্চ। বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পরপরই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালকের নির্দেশক্রমে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করে নেত্রকোণা জেলা আনসার ভিডিপি ও ৬ আনসার ব্যাটালিয়ন ।

জেলা আনসার ভিডিপি সূত্রে জনাযায়, জেলা কমান্ড্যান্ট ( অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও ৬ আনসার ব্যাটালিয়ন পরিচালক মোঃ জিয়াউল হাসানের উদ্যোগে নেত্রকোণা জেলাজুড়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয় যা এখনও চলমান রয়েছে। করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই তৃণমূল পর্যায়ে বিস্তৃত স্বেচ্ছাসেবী আনসার ভিডিপি সদস্যরা নিজেরা সচেতন হওয়ার পাশাপাশি জনসাধারণকেও করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সচেতন হওয়ায় জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে লিফলেট বিতরণ করছেন। এ পর্যন্ত নেত্রকোণা জেলায় ৫০ হাজার লিফলেট বিতরণ করে তারা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ৩১ দফা বাস্তবায়নের জন্য হোম কোয়ারান্টাইন নিশ্চিতকরণের জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে উদ্ধুদ্ধ করাসহ বিদেশফেরত ব্যক্তি ও করোনা ভাইরাস আক্রান্তের বাড়িতে লাল নিশানা টাঙানো হয়।
এছাড়া স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের সাথে বাজার ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ বিতরণ, লকডাউন নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত করেন তারা। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক পরিচালিত মোবাইল কোর্টে ফোর্স দিয়ে সহায়তার পাশাপাশি পেট্রোলিং, চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়। হোম কোয়ারান্টাইন অমান্যকরী ব্যক্তিদের বিষয়ে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশকে অবহিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এছাড়া জেলার ৩ হাজার দুঃস্থ ভিডিপি পরিবারের মাঝে মহাপরিচালক প্রেরিত উপহার সামগ্রী সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করা হয়।
অন্যান্য বছরে দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলো থেকে এ অঞ্চলে ধান কাটার জন্য শ্রমিক আসত। কিন্তু লক ডাউনের ফলে যখন অন্য জেলার শ্রমিকরা এবার আসতে পারছিলেন না তখন বোরো চাষিরা সীমাহীন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। এ প্রেক্ষিতে নেত্রকোণা জেলার জেলা কমান্ড্যান্ট (অতিরিক্ত দায়িত্ব) পরিচালক জনাব মোঃ জিয়াউল হাসানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে আনসার ভিডিপি সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমে ধান কাটার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পুর্বধলা উপজেলার আগিয়া ইউনিয়ন এর খারছাইল গ্রামের দরিদ্র কৃষক আব্দুর রাজ্জাক ও রুকু মিয়ার ১১০ শতাংশ জমি, কৃষক সন্ধ্যা রাণী সরকারের ৮০ শতাংশ, গোহালাকান্দা ইউনিয়নের কিসমত বারেংগা গ্রামের মোঃ আবদুল জব্বার মিয়ার ৫০ শতাংশ, মোহনগঞ্জ পৌরসভার পালেহা গ্রামের শাহজাহান মিয়ার ৭০ শতাংশ, কেন্দুয়া উপজেলার দলপা ইউনিয়নের কৃষক বাবুল মিয়ার ৫০ শতক জমির ধান কেটে বাড়ি পৌঁছে দেন আনসার ও ভিডিপির সদস্যরা। দরিদ্র কৃষকরা যথাসময়ে তাদের ধান কেটে গোলায় তুলতে পেরে বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পরিচালক মোঃ জিয়াউল হাসানের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ব্যক্তিগত পর্যায়ে ব্যাটালিয়নের বিভিন্ন স্তরের সদস্যদের সংগৃহীত তহবিল দিয়ে আশেপাশের দুঃস্থ অভাবী মানুষদের সহায়তা করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত স্থানীয় পর্যায়ের কৃষকদের প্রতি ইঞ্চি জায়গায় ফসল ফলানোর জন্য উদ্ধুদ্ধ করা হয়। এ সকল উদ্যোগ বাস্তবায়নে জেলা কমান্ড্যান্ট পরিচালক মোঃ জিয়াউল হাসান এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলা চষে বেড়িয়েছেন।

আনসার ব্যাটালিয়নের পরিচালক ও জেলা কমান্ড্যান্ট মোঃ জিয়াউল হাসান জাগোকণ্ঠকে বলেন, করোনা মোকাবিলায় আমাদের বাহিনীর প্রতিটি সদস্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সরকারের প্রত্যোকটি নির্দেশ বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও ত্যাগে আমরা অচিরেই অন্ধকার ঘুচিয়ে আলোর দেখা পাবো বলে বিশ্বাস করি।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..