জাতীয়

‘এ পর্যন্ত ২২ হাজার হেক্টর আউশ ধানের ক্ষতি হয়েছে’ : কৃষিমন্ত্রী

  জাগোকন্ঠ ১৯ জুন ২০২২ , ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ

কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, মাঠে এখন বড় কোনো ফসল নেই। সুনামগঞ্জে তো নাই-ই, সিলেটে কিছু ফসল আছে। আমরা সারাদেশটাই দেখছি। তবে বীজতলা নষ্ট হলে ক্ষতি হবে। আউশ ধানের ক্ষতি হবে। এখন পর্যন্ত ১১ লাখ হেক্টর আউশ ধানের চারা লাগানো হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ২২ হাজার হেক্টর ক্ষতি হয়েছে। ৩ লাখ ৮৭ হাজার হেক্টরে বিভিন্ন সবজি আছে। এর মধ্যে পাঁচ-সাত হাজার হেক্টর ক্ষতি হয়েছে। যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে ও বন্যা আসছে, কি হবে জানি না।

রোববার (১৯ জুন) রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউটে কৃষি তথ্য সার্ভিস আয়োজিত ‘বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে খাদ্য নিরাপত্তায় কৃষি ও গণমাধ্যম’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমরা প্রস্তুত আছি। আমরা বীজতলা করব। দরকার হলে আমরা পুনর্বাসনের আওতায় নিয়ে যাব। সরকার এর জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ রেখেছে। আমরা কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে মনিটরিং করছি। আমাদের যদি ক্ষতি হয়ও সেটি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য আমরা কর্মসূচি গ্রহণ করব। যদি দীর্ঘস্থায়ী বন্যা হয় তবে বীজতলা করা কঠিন হবে এবং আমন ধান লাগানো কঠিন হবে।

তিনি বলেন, খাদ্য সংকটের কারণে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। খাদ্য নিরাপত্তার কারণে অনেক দেশে যুদ্ধ হয়, মাইগ্রেশন হয়, সরকার পরিবর্তন হয়। এই মুহূর্তে আমরা জানি বিশ্ব পরিস্থিতি খুবই অস্থির। খাদ্য শস্য তৈরি করার জন্য উপকরণ দরকার, সেটি হচ্ছে সার। যে সার ছিল ৩০০-৩৫০ ডলার পার টন, সেগুলো এখন ২ হাজার ২০০ ডলার। ৩০০ ডলারের জিনিস ৪০০ বা ৫০০ ডলার হতে পারে। সেটা এখন হয়েছ ২ হাজার ২০০ ডলার। ইউরিয়ার দাম ডাবল, পিএসপির দাম ডাবলেরও বেশি। এমন একটা নাজুক পরিস্থিতি।

মন্ত্রী বলেন, যুদ্ধের কারণে খাদ্য সংকট চলছে। ইউক্রেনের কৃষকরা মাঠে যেতে পারছে না। এখন ওই দেশে বিভিন্ন ফসল বোনার সময়। এটার প্রভাব পড়বে আগামী অক্টোবর-নভেম্বর থেকে। আমরাও বুঝতে পারব, বিশ্বে খাদ্যের দাম কীভাবে বেড়ে যায়। রাশিয়াতেও ঠিক একই অবস্থা। পটাশিয়াম সার পৃথিবীর তিনটি দেশ দিয়ে থাকে— কানাডা, বেলারুশ ও রাশিয়া। বেলারুশ ও রাশিয়া ওপর অলরেডি সেঙ্কশন। আমাদের মতো ছোট দেশ এই সেঙ্কশনকে অতিক্রম করে সার কিনতে পারছি না। তারা সার দিচ্ছে না। যার জন্য কানাডা এখন সেই সার ১ হাজার ২০০ ডলারে বিক্রি করছে।

চ্যানেল আইয়ের বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অন্য দেশের যেসব ক্ষতি হয়েছে, সে তুলনায় আমাদের দেশ অনেক ভালো অবস্থানে আছে। তবু কেন আমরা লিকুইড ফার্টিলাইজারে যাচ্ছি না। এটা ব্যবহার করা প্রয়োজন। কারণ লিকুইড ফার্টিলাইজার ব্যবহার করে ফার্টিলাইজারের ভর্তুকি ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক এম এ সাত্তার মণ্ডল। সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, কৃষি সচিব মো. সায়েদুল ইসলাম, ঢাকা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ, দৈনিক জনকণ্ঠের প্রধান প্রতিবেদক কাউসার রহমান, প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক গোলাম ইফতেখার মাহমুদ।