খেলাধুলা

আমরা চাইলেও ওদের মতো ছয় মারতে পারি না : লিটন দাস

  জাগোকন্ঠ ৮ জুলাই ২০২২ , ৮:৩০ পূর্বাহ্ণ

আধুনিক ক্রিকেটে বেশ আলোচিত বিষয় পাওয়ার হিটিং। টি-টোয়েন্টির যুগে ব্যাটসম্যানদের পেশিশক্তিই অনেক ক্ষেত্রে ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দেয়। তবে এ নিয়ে তর্ক আছে ঢের। অনেকেই আবার বিপক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, পেশিশক্তি মুখ্য নয়। তাদের ভাষায় স্কিল আর টেকনিক দিয়েই বড় বড় ছক্কা হাঁকানো যায়। তবে বাংলাদেশ দলের উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান লিটন দাস মনে করেন, টি-টোয়েন্টিতে পাওয়ার হিটিংয়ের ভূমিকা ঢের। যেখানে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ।

উইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারের পর লিটন বলেন, ‘ভালো ভালো দল থেকে আমরা পিছিয়ে টি-টোয়েন্টিতে। আমাদের অনেক কাজ করার আছে। আমরা পাওয়ার ক্রিকেট খেলতে পারি না। টি-টোয়েন্টি অনেকে বলে স্কিলের খেলা, অনেকেই বলে টেকনিক-ট্যাকটিকসের খেলা। আমার কাছে মনে হয় পাওয়ার হিটিংটা খুব দরকার পড়ে। আমার মনে হয় এই জিনিসটাতে আমরা অনেক পিছিয়ে।’

কুড়ি ওভারের ফরম্যাটটা এখনো ঠিকঠাক আয়ত্বে আনতে পারেনি বাংলাদেশ দল। বলা যায়, ক্যারিবীয়দের দ্বিতীয় সারির দলের বিপক্ষে সিরিজ হার। তিন ম্যাচের সিরিজে শেষ ম্যাচে বৃহস্পতিবার ১৬৪ রানের লক্ষ্য দিয়েও ৫ উইকেটে হেরেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। যেখানে কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে বোলারদের নখদন্তহীন বোলিংকে। তবে লিটন দুষছেন ব্যাটসম্যানদের। পাওয়ার হিটিং আর বড় ছয় মারতে না পারার আক্ষেপে পুড়ছেন।

লিটন বলছিলেন, ‘আজকের ম্যাচে হয়তোবা আমাদের বোলারদের প্রয়োগে একটু সমস্যা ছিল। সব বোলার নিজেদের প্রয়োগ ঠিকঠাক করতে পারেনি। আর ওদেরকে ক্রেডিট দিতে হবে যেভাবে ব্যাটিং করেছে পুরান এবং মায়ার্স। খুব ভালো ভালো বলেও ওরা মেরেছে। এই জিনিসটা ওদের প্লাস পয়েন্ট যে ওরা পাওয়ার ক্রিকেট খেলে, আমরা খেলতে পারি না। আমার মনে হয় এই জিনিসটা কাজ করেছে বোলারদের মাথায় যে একটু ১৯-২০ হলেই মেরে দিতে পারে।’

সঙ্গে যোগ করেন লিটন, ‘তারা জেনেটিক্যালি অনেক পাওয়ারফুল, যেটা আমি না বা আমাদের টিমের কেউই না। তারা চাইলে বড় গ্রাউন্ডসের ওপর দিয়ে ছয় মেরে দিতে পারে যেটা আমি বা আমাদের টিমের কেউই ক্যাপাবল না। আমরা সব সময় চেষ্টা করি চার মারার জন্য। আপনারা দেখবেন, আমাদের কিন্তু চারই বেশি হয়। ওরা ছয় বেশি মারে। এই পার্থক্যটা সবসময় থাকে।’

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতে পথ হারিয়েছিল উইন্ডিজ। তবে ওপেনার কাইল মায়ার্স আর অধিনায়ক নিকোলাস পুরানের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ক্যারিবীয়রা। ৩২ বলে ফিফটির দেখা পান মায়ার্স। পরে ৩৮ বলে ২টি চার আর ৫টি ছয়ের মারে ৫৫ রান করেন তিনি। ৩১ বলে ফিফটির দেখা পান পুরান। ৩৯ বলে হার না মানা ৭৪ রানের ইনিংসে মারেন সমান ৫টি করে চার-ছয়।

আসন্ন অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপের আগে মায়ার্স-পুরানদের মতো পাওয়ার হিটিং আয়ত্ব করতে না পারলে ভুগতে হবে বলে মনে করছেন লিটন, ‘বিশ্বকাপে যেখানে (অস্ট্রেলিয়া) খেলব, সেখানে মাঠ অনেক বড় থাকবে। এই জিনিসটা আমাদের অনেক ভোগাবে। আমরা যত পারব অনুশীলন করব, গেম খেলব, এই জিনিসটা যত তাড়াতাড়ি উন্নতি করতে পারি, আমরা ভালো আত্মবিশ্বাস নিয়ে যেতে পারব বিশ্বকাপে।’

আরও খবর: