দেশজুড়ে

অসময়ে ‘তরমুজ’ চাষ করে দুই ভাইয়ের বাজিমাত

  জাগোকন্ঠ ৫ আগস্ট ২০২২ , ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ

দুই পাশে সারি সারি ধানক্ষেত। এরই মাঝে জালের ফাঁকে ঝুলছে বিভিন্ন আকারের তরমুজ। অসময়ে এই তরমুজ দেখে অবাক হচ্ছেন অনেকেই। বরগুনা সদর উপজেলার কালীরতবক গ্রামের আবদুল আলীম ও বনি আমিন নামে দুই যুবক ৮০ শতক জমিতে বর্ষাকালে তরমুজ আবাদ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন।

জানা গেছে, বাংলাদেশের আবহাওয়া অনুযায়ী সাধারণত জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত তরমুজ চাষের উপযোগী সময়। তবে গত বছর বর্ষাকালে ইউটিউবে ভিডিও দেখে পরীক্ষামূলকভাবে ৮০ শতক জমিতে তরমুজ চাষের উদ্যোগ নেন দুই ভাই আলীম ও বনি আমিন। বাড়ির সামনের মাছের ঘেরের পাশে ৫০০ চারা রোপণ করেন তারা। এলাকার লোকজন এসব দেখে প্রথমে হাসিঠাট্টা করেন। তবে আলীম ৫০০ গাছে দেড় হাজার তরমুজ পেয়েছেন তখন।

গত বছর তরমুজ চাষ করে লাভবান হওয়ার পর এবার আবার ৮০ শতক জমিতে তারা তরমুজ আবাদ করেছেন। মে মাসের শেষের দিকে তারা ৩৫০টি চারা রোপণ করেন। চারাগুলো পরিচর্যা করলে তা বেড়ে ওঠে। এরপর পুকুরের মধ্যে খুঁটি পুঁতে জাল দিয়ে লতাগুলো জালের ওপর তুলে দিলে সেগুলো বেড়ে উঠতে থাকে।

ইতোমধ্যে তরমুজ বিক্রি শুরু করেছেন তারা। এবার ৩৫০টি গাছে এক হাজার ২০০ তরমুজ আসবে বলে আশা করছেন দুই ভাই। প্রতিটি তরমুজের ওজন দুই থেকে তিন কেজি। যা কেজি প্রতি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এবার তরমুজ আবাদে ব্যয় হয়েছে ১০ হাজার টাকা। ১০ হাজার টাকা উৎপাদন খরচের বিপরীতে ১ লাখ টাকার ওপরে তরমুজ বিক্রি হবে বলে জানান আলীম।

বনি আমিন বলেন, ইউটিউবে ভিডিও দেখে তরমুজ চাষের বিষয়টি আমার বড় ভাই আলীমকে জানাই। তিনিও বিষয়টি শোনার পর আগ্রহী হন। এরপর দুই ভাই মিলে বাড়ির সামনের জমিতে তরমুজ চাষের পরিকল্পনা করি। এরপর জমি প্রস্তুত করে তরমুজ আবাদ করি। প্রথমে অনেকেই অসময়ে তরমুজ চাষ করা নিয়ে হাসিঠাট্টা করলেও আমাদের সফলতা দেখে তারাই পরামর্শ নিতে আসেন।

বনি আমিনের ভাই আবদুল আলীম বলেন, অসময়ে তরমুজ আবাদ করা যায়- এমন কথা ছোট ভাইয়ের কাছে শুনে আমি আর বসে থাকিনি। সেই কাজে নেমে পড়ি। কাজটা যখন প্রথম শুরু করি, তখন অনেকে হাসিঠাট্টা করেছে। ফলে আমাদের মনে এক ধরনের জেদ তৈরি হয়। সেই জেদের কারণেই বাবা-মা ও দুই ভাইয়ের পরম যত্নে আমাদের সফলতা আসে।

তিনি জানান, এবার দেড় হাজার তরমুজ উৎপাদন হয়েছে। ওজনে তিন থেকে পাঁচ কেজি। দেড় হাজার তরমুজ প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বাড়ি থেকেই।

বরগুনা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এই পদ্ধতি ছড়িয়ে দেওয়া গেলে একদিকে যেমন তরমুজ সারা বছর পাওয়া যাবে, অন্যদিকে চাষিরাও লাভবান হবেন। যারা এই জাতের তরমুজ চাষ করতে আগ্রহী, কৃষি অফিস থেকে তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।

প্রসঙ্গত, বরিশাল আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে ২০১৭ সালে প্রথম ভাসমান সবজি ও ফল আবাদ প্রকল্পের অধীনে পরীক্ষামূলক ‘বেবি ওয়াটার মেলন’ বা ছোট তরমুজের আবাদ শুরু হয়। সেটা ছিল আকারে ছোট, দু-এক কেজি ওজনের এবং হাইব্রিড প্রজাতির। এরপর এই ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা গবেষণা চালিয়ে গত বছর দুটি দেশি জাত বারি তরমুজ-১ ও ২ উদ্ভাবন করেন। এই প্রজাতির তরমুজ প্রান্তিক পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও খবর: